অনুভূতির অন্তরালের কিছু কথা: অ্যাকশন মেহেদী ম্যাজিক ২০১৪

জগতের কঠিনতম কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো অনুভূতিগুলোকে লৈখিক রূপে প্রকাশ করা! অনুভূতিগুলোকে কিছু নিনীষীয় শব্দের সুশৃঙ্খল প্রয়োগে প্রকাশ করা বেশ শক্ত কাজ বৈকি। তবে লেখক, কবিগণ এ কঠিন কাজটি চমৎকারভাবে করে থাকেন; লেখক কিংবা কবি না হলেও আমি সে চেষ্টাটাই এখন করবো- কিছু অনুভূতি শেয়ার করবো।

২৪শে জুলাই, ২০১৪, সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার সময়ও মনে হয়নি দিনটা আর দশটা সাধারণ দিনের চাইতে একটু অন্যরকম হবে। ওভাবে ভাবতে গেলে সব দিনই অন্যরকম; একেকটা দিন নতুন বার্তা নিয়েই আসে। কিন্তু সে দিনটা একটু বেশি-ই আলাদা ছিল আমার জন্য।

অ্যাকশন মেহেদী ম্যাজিক: নাম শুনলেই মনে হয়- আপুদের ইভেন্ট! কমিউনিটিঅ্যাকশনের ইভেন্টিতে আগে কখনো অংশগ্রহণ না করলে, অথবা কোন আইডিয়া না থাকলে বোঝার উপায় নেই, ভাইয়াদেরও অনেক কিছু করার আছে এখানে!

"ভাইয়াদেরও অনেক কিছু করার আছে এখানে!" :D

“ভাইয়াদেরও অনেক কিছু করার আছে এখানে!” :D

২৩শে জুলাই রাতে রাইয়্যান ভাইয়ার সাথে কথা হয়েছিল; ভাইয়া বলেছিলেন চলে আসতে। উত্তরা টু মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার মোড়: আগে কখনো ওখানটায় যাওয়া হয়নি বলে পৌছুতে বাস, রিকশা, লেগুনা এবং সমান তালে পায়ে হাঁটা কোন কিছুই বাদ পড়ে নি। অবশেষে ৪০মিনিট দেরীতে  পৌছানো। তারপর কেবল কাজ…টানা কাজ…
বাচ্চাদের লাইনে দাঁড় করানো(লাইন সোজা রাখা অসম্ভব, সেমি কার্ভড হবেই!), নখ কেটে দেয়া, মেহেদী পড়ানো। মেহেদী পড়ানোর কজাটা মূলত আপুরা করে থাকলেও ভাইয়ারাও কম যায় নি: সমান তালে মেহেদী পড়িয়েছিলেন; ডিজাইন আঁকতে পারছি না- প্রবলেম নাই, ওদের নামের প্রথম অক্ষর লিখে, চার কোণার চারটা ফোঁটা দিয়ে দেই (এটা আমি করেছি; রাইয়ান ভাইয়া, সাদমান ডিজাইনে আপুদের চাইতে কম যায় নি!)

যদি বলা হয় ইভেন্টের কঠিনতম কাজ কোনটি ছিল যা করতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়েছিল- পর্যাপ্ত ভলেন্টিয়ার না থাকায় ঠিকভাবে সবক’টা কাজ-ই ঠিকভাবে করা কঠিন হয়ে পড়েছিল- তবে মেহেদী লাগানো পরবর্তী বাচ্চাদের গিফট দেয়ার সময়টা সবকিছুকেই ছাপিয়েছে! গিফটের প্যাকেট ছিল দুইশ’টা, শুনতে পর্যাপ্ত মনে হলেও, গিফট দেয়ার সময়টা দেখার মত ছিল! গিফট দিয়ে যখন কুলাতে পারছিলাম না তখন হাত উঁচিয়ে ধরে ছিলাম তারপরও ক্যামনে-ক্যামনে নিয়ে নিয়েছিল!

দিনশেষে প্রাপ্তি আমার সাদা পাঞ্জাবী জুড়ে ছোপ-ছোপ মেহেদীর দাগ; আমি এদের হাতে মেহেদী লাগিয়ে দিয়েছি, ওরা অধিক উৎসাহে আমার পাঞ্জাবীতে লাগিয়েছে: সমানে-সমান! :D

"কিন্তু সে দিনটা একটু বেশি-ই আলাদা ছিল আমার জন্য।"

“কিন্তু সে দিনটা একটু বেশি-ই আলাদা ছিল আমার জন্য।”

রোজা রেখে কাজগুলো করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল তবে কাজটার মাঝে কিছু একটা ছিল, কিছু একটা ছিল… ২৫শে জুলাই বেইলি রোড, ২৬শে জুলাই ঢাবি জোন, দুটোতেই পার্টিসিপেট করলাম (কাজ অবশ্য তেমন করতে হয় নি, আলহামদুলিল্লাহ অনেক বেশি ভলেন্টিয়ার উপস্থিত ছিল) কিন্তু সেটা মেইন পয়েন্ট না, আসলে একটা নেশা পেয়ে বসেছিল, বেশিরভাগ সময়ই যে ইচ্ছেটা, যে নেশাটা সুপ্ত থাকে নিজের মধ্যে সেটা জেগে উঠেছিল! ভালো কিছু করার নেশা, মানুষের জন্য কিছু করার নেশা, ‘ইভেন অ্যা স্মাইল ইজ চ্যারিটি’ কথাটা মন থেকে অনুভব করার নেশা, খুব অল্প কিছু করে-যৎসামান্য পরিমাণ দিয়ে অপার্থিব কিছু অনুভূতি কুড়ানোর নেশা। ‘অনেক অপূর্ণতার ভিড়ে, হতাশার দোলাচলে, চাপা অস্বস্তিতে উচ্চারিত ‘হোয়াই অলওয়েজ মি? অ্যাম আই দ্যা আনলাকিয়েস্ট’ এই বাক্যগুলো নিমিষেই প্রতিস্থাপিত হয় ‘আই অ্যাম সারটেইনলি লাকিয়ার দ্যান মেনি পিপল’।

‘আমি অনেকের চাইতে ভালো আছি’ এমনটা ভেবে মানসিক প্রশান্তি পাওয়াটা অবশ্যই ইতিবাচক ব্যাপার কিন্তু এর ব্যাপ্তি কিন্তু বেশি নয়! মানসিক প্রশান্তির এই ব্যাপারটা কেবল ইতিবাচক ভাবে যিনি চিন্তা করলেন তার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকলো, কিন্তু এই ইতিবাচক উপলব্ধিটা আরেকটু প্রসারিত করে যাদের চাইতে স্রষ্টা আমাকে অনেক বেশি ভালো রেখেছেন তাদের মাঝে আমার ভালোর কিছুটা ছড়িয়ে দেই তাহলে ‘ইতিবাচক’ চিন্তার ব্যাপকতা অনেক বেড়ে যায়! এবং এ ধরণের কজগুলোর সাথে সম্পৃক্ত মানুষগুলো এভাবেই হয়তো ভাবেন, কাজ করেন।

এই ইভেন্টে কাজ করায় পরিচয় ঘটেছিল কিছু চমৎকার মানুষের সাথে; পরিচিত কিছু ভাইয়া-আপু আর বন্ধুদের সাথে টিম-ওয়ার্কের সুযোগ সহ আরও অনেক কিছু। এ মুহূর্তে যাদের কথা মনে পড়ছে তারা হলো- জাহিদ ভাইয়া, রাইয়্যান ভাইয়া, রাব্বি ভাইয়া, তন্বী আপু, অন্তরা আপু, ত্রপা, অনুসূয়া, অক্ষর, আকাশ, বৈশাখ, সাদমান, জারির, আবীর সহ আরও অনেকেই।

মানুষকে যদি এতো সহজেই খুশী করা যায়, এত সহজেই যদি ঠোঁটে হাসি ফোটানো যায়- তাহলে সেই সহজ কাজ করার চেষ্টাটা করবো না কেন? স্মাইলের একটা ডেফিনিশন হচ্ছে- ‘স্মাইল ইজ অ্যা কার্ভ দ্যাট কিপ্স এভ্রিথিং স্ট্রেইট!’ এ কারণেই হয়তো বলা হয়- ‘ইভেন অ্যা স্মাইল ইজ চ্যারিটি।’

About Kamrul Hasan Hridoy

Simple, complex, compound are three types of sentence. If man can be defined correlating with types of sentence- I'm neither too simple nor too complex. I will include myself as a 'Compound' type. My characteristics, habits, mentality both inner and outer mind are joined with each other by my feelings. 'Feeling' is like junction 'And' which conjoins two sentence to form them into compound one. These assumption can be similar with others'. In that case, I say, I am common person with common characters. So, similitude is normal. Whatever, I am a 4th year student of Biochemistry and Molecular Biology at Dhaka University. Try to run my life in a meaningful way...
This entry was posted in Action: Mehndi Magic. Bookmark the permalink.

One Response to অনুভূতির অন্তরালের কিছু কথা: অ্যাকশন মেহেদী ম্যাজিক ২০১৪

  1. Abirhossain Anik says:

    হৃদয় ভাই আমিও তোমার সাথে একমত……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *