আমরাও যখন ছোট্ট শিশু…

মেহেদী- বাইরেটা দেখতে যেমনই হোক, ভেতরটা কিন্তু বরাবরই রাঙা। আর সে রঙেই ২৫ জুলাই, ২০১৪ তারিখে বেইলী রোডের ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের মূল ফটকের সামনের ফুটপাতটি রাঙা হয়ে উঠেছিল একদল শিশুর প্রাণখোলা কলরবে।

এসব ছোট্ট শিশু যাদের জীবনযাপন হয়ত ততটা রঙিন নয়, নেই পরিচ্ছন্ন থাকার জায়গা, হয়তো ইট-পাথরের এই ব্যস্ত শহরে হারিয়ে গেছে তাদের খেলার স্থানটিও। তাই আজ কেউ টোকাই, কেউ চকলেট অথবা ফুল বিক্রেতা। আর এসব শিশুদের মুখে ক্ষণিকের জন্য হলেও হাসি ফুটিয়ে ঈদের ষোলোআনা পূর্ণ হয় CommunityAction এর Action: Mehndi Magic এর মাধ্যমে।

প্রথমবারের মত আমাদের স্পন্সর ছিল, তাই আয়োজনটাও একটু বড়। আর এ বড় আয়োজনটা সম্পন্ন করতেই জুটে যায় ১৮ জোড়া প্রাণোচ্ছল হাত- যারা বাচ্চাদের সাথে কথা বলেছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি লেখাপড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বাচ্চাদের সচেতন করেছে, তাদের নখ কেটে দিয়েছে, সর্বোপরি রাঙিয়েছে তাদের ছোট্ট ছোট্ট হাত…

কেউ “ঈদ মোবারক” লিখেই খুশি, কেউ আঁকিয়েছে চিরায়ত আল্পনার নকশা। কেউ লিখিয়েছে পরিবারের সদস্যদের নাম, কেউবা নিজের প্রিয় বন্ধুটির নাম… ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় অনেকে তাদের প্রিয় খেলোয়ারের নামটি লিখতে ভোলেনি।

এসব বাচ্চাদের কৌতূহল সীমাহীন- “মেন্দি শুকাইতে কতক্ষন লাগবো?”, “রং হইবো তো?” এসব প্রশ্নের পাশাপাশি কার মেহেদী কত বেশি সুন্দর হয়েছে তারও যেন প্রতিযোগিতা চলছিল! মেহেদীর রংটা যেন তাদের চোখে-মুখে প্রকাশ পাচ্ছিল। মেহেদী দেয়া শেষে সবাইকে যখন তাদের গিফট দেয়া হল তখন তাদের আনন্দ যেন আর ধরে না! চকলেট, ললিপপ আর বেলুনে যেন হুলুস্থুল অবস্থা।

মাঝে এক বয়স্ক খালা এসে আমাকে বললেন, “আমারে মেন্দি দিয়া দিবেন না?!” আমি বললাম, “খালা আমরা তো বাচ্চাদের দিয়ে দিচ্ছি”। জবাব এল- “বয়স অইছে তো কী হইসে? আমার তো শুদু বয়সটাই বাড়সে, মন তো এখনো জুয়ান আসে রে মা। বয়সে বুড়া অইছি, মনডা তো ছুডুই”। আসলেই ওদের আনন্দ মুখরতায় আমরা ভলান্টিয়াররাও যেন শহুরে জঞ্জাল ভুলে ওদের সমবয়সী হয়ে গিয়েছিলাম, হয়ে গেছিলাম ওদের মতই ছোট্ট শিশু।

This entry was posted in Action: Mehndi Magic. Bookmark the permalink.

One Response to আমরাও যখন ছোট্ট শিশু…

  1. Abirhossain Anik says:

    আপু সত্যি পিচ্চি কালে ফিরে যেতে ইচ্ছে করছিল ….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *