ফিরে আসার তাগিদ

Action: Piyaju Beguni , ব্যক্তিগতভাবে এই নামটা বরাবরই আমার কাছে অনেক আপন… APB এর সাথে প্রথম পরিচিত হই ২০১২ সালে, আর এর মাধ্যমেই CommunityAction এর সাথে আমার যাত্রা শুরু। এ বছর প্রায় পুরো রোজার সময়টা জুড়ে পরীক্ষা ছিল- একদিকে বরাবরের মত Action: Piyaju Beguni এ র আনন্দ আর অন্যদিকে পরীক্ষার টেনশন।
প্রথম এরিয়া লিডার মিটিং এ যখন জানতে পারলাম যে আমাকে ডি.ইউ জোনের মেন্টর করে দেয়া হয়েছে, তখন সত্যিকার অর্থে আমার মাথায় বাজ পরার দশা, কিন্তু মনে মনে ভরসা ছিল একশনিয়ার ছোট ভাই, সর্বোপরি ডি.ইউ জোনের এরিয়া লিডার বিভোরের উপর- আমরা ঠিকঠাক সামলে নিতে পারবই। :)
মিটিং এর পর থেকে আমাদের ফান্ড রেইজিং এর কাজ শুরু হয়ে যায়, তখনও প্রি ইভেন্ট মিটিং হয় নি। ধীরে ধীরে আমাদের সাথে অনেক নতুন মুখ জুড়ে যাচ্ছিল আর সাথে চলছিল নির্দিষ্ট এলাকার গন্ডিতে থেকে এতিমখানা ও মাদ্রাসার খোঁজ। কারন ২০০৯ থেকে প্রতিবছর Action: Piyaju Beguni মূলত পথশিশুদের জন্য আয়োজিত হলেও এই প্রথমবার জোনভিত্তিক ভাবে বিভিন্ন মাদ্রাসা বা এতিমখানায় একশন পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়।

Pre Event Meeting, DU Zone

আমাদের প্রি ইভেন্ট মিটিং হয় ৩ জুলাই, শুক্রবার বিকেলে। মোট ৩০ জন আনকোড়া নতুন ও  অভিজ্ঞ পুরনো একশনিয়ার মিলে আলোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত উঠে আসে বেশ অনেকগুলোই- আমরা কোথায় একশনটি সম্পন্ন করতে পারি তার সম্ভাব্য তালিকা চুড়ান্ত করা এবং সে অনুযায়ী ঐ প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলা, মোটামুটি সবার সুবিধা অনুযায়ী ইভেন্টের সম্ভাব্য দিন, শিশুদের ইফতারের জন্য যথাসম্ভব মজাদার ও সুষম মেন্যু (খেঁজুর, আম, কলা, ডিম, চিকেন রোল, চকলেট কেক), ফান্ডের অগ্রগতি ইত্যাদি।
এরপর বাজারের পালা… ১০ তারিখ সকাল ৮ টার মধ্যে আমি, বিভোর, ফারিহা, প্রীতম, মোয়াজ, হৃদয় ভাই, মাহবুবা, ছোঁয়া, শাহরিয়ার, রবি ভাই, ধ্রুব ও মিসবাহ ভাই সোনারগাঁ সিগনালে জড়ো হলাম এবং হৈ হুল্লোড় করতে করতে কারওয়ান বাজারে ঢুকলাম। এখানে বিশেষ ধন্যবাদ ধ্রুবের গাড়িকে, বাজার থেকে জিনিসপত্র প্যাকিং প্লেসে নিয়ে যেতে সহায়তা করার জন্য। :D

at bazar

এরপর এলো মূল পর্বের পালা, অর্থাৎ ইভেন্টের দিন- ১১ জুলাই,শনিবার। তাহিরাকে ধন্যবাদ, ওর বাসাকে আমাদের প্যাকিং প্লেস হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়ার জন্য। প্রথমে চলল আম ধোয়া পর্ব- আম ধোয়া এক্সপার্ট হিসেবে ছিলেন রবি ভাই, হৃদয় ভাই ও মাহবুবা। তারপর চলল প্যাকিং, বিকাল ৫ টার মধ্যে কাজ সেরে দল ভাগ করে নিয়ে আমরা বেড়িয়ে পরি নির্দিষ্ট গন্তব্যের পথে- আজিমপুরের সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা (ছেলে-মেয়ে মিলে ২৫০ জন শিশু) ও লালবাগের হযরত হোসেন (র) মাদ্রাসা (১০০ জন শিশু)। এছাড়া খুব ছোট পরিধিতে পথশিশুদের মাঝে ইফতার বন্টন করা হয়।

ধন্যবাদ অক্ষরকে লালবাগ মাদ্রাসার ম্যানেজমেন্টের জন্য, হৃদয় ভাইকে ধন্যবাদ লালবাগের বাচ্চাগুলোর সাথে একটা ইন্টারএকটিভ সেশন আয়োজন করার জন্য, ধন্যবাদ ইমরান ভাইকে সলিমুল্লাহ এতিমখানার ছেলেদের অংশের দায়িত্বে থাকার জন্য, আর আমি সব আপুদের নিয়ে দেখেছি সলিমুল্লাহ এতিমখানার মেয়েদের অংশটুকু। আর পথশিশুদের ইফতার বন্টনের দায়িত্বে ছিল জোনের একশন লিডার বিভোর নিজে। বাচ্চাদের হাসিমাখা মুখ ও আমাদের কাজের মুহূর্তগুলোকে ফ্রেমে বন্দি করার জন্য ধন্যবাদ ইমরান ভাই, প্রীতম ও কারুবা কে। এছাড়া প্রীতমকে বিশেষ ধন্যবাদ আমাদের জোনের ফিন্যান্স ও এইচ.আর দেখার জন্য। :)

বাচ্চাদের সাথে বসে আমরা যখন ইফতারের প্রস্তুতি নিচ্ছি তখন ওরা জানতে চাইল আমাদের আর বাড়তি কিছু লাগবে কিনা বা আমাদের কোন অসুবিধা হচ্ছে কিনা। কিছুটা সময়ের জন্য ওদের সাথে থেকেছি, অথচ ওরা সবাই এমনভাবে আমাদের আগলে ছিল যেন আমরা সবাই ওদের কত চেনা! তৃপ্তির ইফতার শেষে হাসিমুখে ওরা জানতে চাইল আমরা আবার কবে আসব, আমরা যেন এসে মাঝে মাঝে ওদের সাথে দেখা করে যাই… কথা বলতে বলতে পেড়িয়ে গেছে অনেকটা সময়, ফিরে যেতে হবে… কিন্তু এত মমতায় ভরা হাসিমাখা মুখগুলোর দিকে তাকিয়ে পা যেন আর চলছিল না, একটা তাগিদ টের পাচ্ছিলাম নিজের ভেতর- আমাকে যে ফিরতে হবে, ফিরে আসতেই হবে… :’)

This entry was posted in Action: Piyaju-Beguni. Bookmark the permalink.

2 Responses to ফিরে আসার তাগিদ

  1. Md Abir Hossain says:

    those days passing through APB are really very glad to me..

  2. হৃদয় says:

    স্বপনের পেছনে ছোটার প্রেরনাকে শাণিত করতে এই ধরণের ইভেন্টগুলোতে পার্টিসিপেট করা উচিত।
    “আমাকে যে ফিরতে হবে, ফিরে আসতেই হবে।”… ফ্রস্টের সেই লাইনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়-
    “The woods are lovely dark and deep,
    but I have promises to keep,
    miles to go before I sleep,
    and miles to go before I sleep.”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *